শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন আজ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪১ জন দেখেছেন

পুরো পরিবারকে হারিয়ে, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অকুতোভয় রাজনীতিক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন আজ।

শেখ হাসিনা। দেশের সবচেয়ে বেশি সময়ের সরকার প্রধানের কৃতিত্ব তাঁর। তুলনার বিচারে দেশের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়কও তিনি। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু, দেশ ছাপিয়ে তাঁর অর্জন বিশ্ব রাজনীতিতেও, পেয়েছেন বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি। হারিয়েছেন পুরো পরিবারকে, নিয়েছেন জীবনের ঝুঁকি। তবুও কান্ডারী হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অকুতোভয় এই রাজনীতিকের ৭৪তম জন্মদিন আজ।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান, একইসঙ্গে জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার জন্ম গোপালগঞ্জে। এরপর ঢাকার আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয়, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন।

হাসিনার রাজনীতির পাঠ পারিবারিক আবহেই। কলেজে ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন এবং ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

১৯৬৭ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার সময় শেখ হাসিনা তার স্বামী ও ছোট বোন শেখ রেহানাসহ জার্মানিতে ছিলেন। রাজনৈতিক পটবদলে ইউরোপ ছেড়ে স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে হয় শেখ হাসিনাকে।

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রবাস থেকেই মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ১৭ মে মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন হাসিনা।

১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা তিনটি আসনে বিজয়ী হন। ৯০ সালের সামরিক স্বৈরশাসন বিরোধী আণ্দোলনে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়ে, সোচ্চার ছিলেন সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হলে ২৩ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার মধ্যে দিয়ে ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

প্রথমবারের মতো সরকারের মেয়াদ পূরণ করার কৃতিত্বও আছে শেখ হাসিনার। কিন্তু, ২০০১ সালে তিনি সংসদে বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় গ্রেনেড হামলা করে তাঁকে হত্যাচেষ্টা করা হয়।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে জয়ী হয়। এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো এবং একটানা তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

শেখ হাসিনা নিজ দেশেই কেবল নন, বিশ্বেও সমাদৃত। ২০১০ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এমডিজি অর্জনে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘ পুরস্কার, ২০১৫ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি অর্জনে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচারণার জন্য ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পদক পান। ২০১৫ সালে পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ বৈশ্বিক পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দি আর্থ’ লাভ করেন শেখ হাসিনা। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মানে ভূষিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার, বিপন্ন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপি প্রশংসিত, মানবতাবাদী রাষ্ট্রনায়কের নাম এখন শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন

আরো খবর

করোনায় সাত কোটি লোককে সহায়তা দিয়েছে সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় সাত কোটি মানুষকে সহায়তা দিয়েছে সরকার। করোনাকালীন কর্মহীনদের নগদ অর্থ, বিদেশ ফেরত প্রবাসী ও প্রান্তিক চাষিদের সহজ শর্তে ঋণ, গরিবদের কম দামে ও বিনা মূল্যে ত্রাণ বিতরণসহ অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে এ সহায়তা দেয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এ প্রতিবেদনে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন খাতে নেয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তরা বলেছেন, করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই প্রণোদনা প্যাকেজের বড় একটি অংশ ঋণনির্ভর। এ ঋণের সদুহার কম এবং শর্ত শিথিল। এর মধ্যে শিল্প সেবার খাতের ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল রয়েছে। এরই মধ্যে বড় ব্যবসায়ীদের জন্য গঠিত শিল্প ও সেবা খাতের তহবিলের ৮৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো।
করোনার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ নিম্ন আয়ের মানুষকে এককালীন নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে খরচ হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি।
এ ছাড়া শহরের দরিদ্র্য মানুষকে ১০ টাকা দামে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রায় আড়াই কোটি পরিবার উপকৃত হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির মধ্যে গত অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশিমক ২৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এ হার এশিয়া ও বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বেশি।
করোনার মধ্যেও গত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অর্থবছরে দেশের দারিদ্র্য হারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, করোনায় দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।
করোনার প্রভাবে নতুন করে আরও আড়াই কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে এসেছে। ফলে দারিদ্র্য হার আগের চেয়ে বেড়েছে বলে বলে জানান তারা।
আবু কাওসার

করোনায় সাত কোটি লোককে সহায়তা দিচ্ছে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী

করোনায় সাত কোটি লোককে সহায়তা দিয়েছে সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় সাত কোটি মানুষকে সহায়তা দিয়েছে সরকার। করোনাকালীন কর্মহীনদের নগদ অর্থ, বিদেশ ফেরত প্রবাসী ও প্রান্তিক চাষিদের সহজ শর্তে ঋণ, গরিবদের কম দামে ও বিনা মূল্যে ত্রাণ বিতরণসহ অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে এ সহায়তা দেয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এ প্রতিবেদনে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন খাতে নেয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তরা বলেছেন, করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই প্রণোদনা প্যাকেজের বড় একটি অংশ ঋণনির্ভর। এ ঋণের সদুহার কম এবং শর্ত শিথিল। এর মধ্যে শিল্প সেবার খাতের ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল রয়েছে। এরই মধ্যে বড় ব্যবসায়ীদের জন্য গঠিত শিল্প ও সেবা খাতের তহবিলের ৮৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো।
করোনার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ নিম্ন আয়ের মানুষকে এককালীন নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে খরচ হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি।
এ ছাড়া শহরের দরিদ্র্য মানুষকে ১০ টাকা দামে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রায় আড়াই কোটি পরিবার উপকৃত হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির মধ্যে গত অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশিমক ২৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এ হার এশিয়া ও বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বেশি।
করোনার মধ্যেও গত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অর্থবছরে দেশের দারিদ্র্য হারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, করোনায় দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।
করোনার প্রভাবে নতুন করে আরও আড়াই কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে এসেছে। ফলে দারিদ্র্য হার আগের চেয়ে বেড়েছে বলে বলে জানান তারা।
আবু কাওসার

করোনায় সাত কোটি লোককে সহায়তা দিচ্ছে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী