বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

আজ জাতীয় পাট দিবস
রিপোর্টারের নাম / ৯৮ বার
আপডেট সময় বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২

 

প্রত্যাশা টিভি ডেস্ক :
পাট দেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাটজাত পণ্য দেশে যেমন গুরুত্বের দাবিদার, তেমনি বিশ্ব বাজারেও এটি একটি অনন্য পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে সমাদৃত। দেশে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে আজ জাতীয় পাট দিবস পালন করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পাটজাত বহুমুখী পণ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন।

এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সোনালী আঁশের সোনার দেশ, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি ‘জাতীয় পাট দিবস-২০২২’ উদযাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জাতীয় পাট দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘সোনালি আঁশের সোনার দেশ – পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে যথাযথ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, সোনালি আঁশ হিসেবে খ্যাত পাটের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি গভীরভাবে জড়িত। এ দেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পাট ও পাটজাত পণ্য দেশে যেমন গুরুত্বের দাবিদার, তেমনি বিশ্ব বাজারেও এটি একটি অনন্য পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে সমাদৃত। কৃত্রিম তন্তুর পরিবর্তে পাটের ব্যবহার পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পাটখাতকে সুসংহত ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেন। পাটখাতের উন্নয়নে নানামুখী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ফলে বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে পাটের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা, ২০১৩’ প্রবর্তন করা হয়েছে। পাট চাষসহ পাটখাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সুরক্ষার লক্ষ্যে ‘পাট আইন, ২০১৭’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উদ্যোক্তাগণ ২৮২ প্রকার দৃষ্টিনন্দন পাটপণ্য উৎপাদন করছে। পাটশিল্পের বিকাশে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিপণনের জন্য বহির্বিশ্বে এসব পণ্যের ব্র্যান্ডিং এর জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক।
বিশ্বব্যাপী পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে পাট চাষিগণ পাটের ন্যায্য মূল্য পাবে এবং দেশের অর্থনীতি অধিকতর সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাট থেকে উৎপাদিত বহুমুখী পণ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে ।
তিনি ‘জাতীয় পাট দিবস -২০২২্ এর সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,এক সময়ের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট এখনও দেশের ২য় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। শুধু তাই নয়, বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে পাটের ভূমিকা একটি স্বীকৃত ইতিহাস।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বসভায় প্রতিষ্ঠিত করা। এই সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় পাট ও পাটজাত পণ্য আমাদের অন্যতম হাতিয়ার হবে বলে আমার বিশ্বাস। জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ায় সোনালি আঁশ পাটের সোনালি অধ্যায় আজ আর স্বপ্ন নয়। আমাদের সরকারের সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে পাটখাত আজ দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় এক অন্যতম অনুষঙ্গ। পাট বিষয়ে আমাদের আছে দক্ষ পাট চাষি, আছে আধুনিক উপযোগী জাত, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা, আর আছে বহুমুখী ব্যবহারের বিভিন্ন পাট পণ্য এবং ব্যবহারের বিভিন্ন উপযোগী ক্ষেত্র।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পাট চাষ ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যম দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে আরও বহুদূর।

দিবসটি উপলক্ষে আজ (রোববার) পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানী বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদানের জন্য ১১টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেবে সরকার। পাটখাত উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম, পাটবীজ আমদানিতে নির্ভরশীলতা হ্রাস, পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, প্রচলিত ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদনও রপ্তানীর মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখার জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ