বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

বাজার সয়লাব রেকর্ড পরিমাণ আমদানি করা খেজুরে
রিপোর্টারের নাম / ৯২ বার
আপডেট সময় বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২

 

বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। সব শ্রেণির মানুষই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী নানা জাতের খেজুর কেনেন। তাই এই সময় বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীরা প্রচুর পরিমাণ খেজুর আমদানি করেন।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে রেকর্ড পরিমাণ খেজুর আমদানি হয়েছে। বেশি পরিমাণে আমদানি করায় কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমও পড়েছে।

চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জ ও কদমতলীর ফলমন্ডী বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে খেজুরের ব্যাপক সরবরাহ। খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বাড়তি হলেও পাইকারি দাম তুলনামূলক কম।

আছাদগঞ্জের খেজুরপট্টির মেসার্স তামান্না এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সালাউদ্দিন রাসেল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ বছর চাহিদার তিনগুণ খেজুর আমদানি হয়েছে। বাজারে এখন বিক্রেতা বেশি, ক্রেতা কম। তবে এ সপ্তাহে বেচাবিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি। এবার খেজুরের দাম মানভেদে গতবারের চেয়ে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা কম।’

মেসার্স আল-হারামাঈন ট্রেডিংয়ের জাকের সওদাগর বলেন, ‘ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আতঙ্কে আমদানিকারকরা আগেই চাহিদার অতিরিক্ত খেজুর আমদানি করে রেখেছে। তাই বাজারে খেজুরের ব্যাপক সরবরাহ।’

আমদানিকারকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত দেশে বছরজুড়ে খেজুরের চাহিদা থাকে ৪০ হাজার টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসে চাহিদা থাকে ২৫ হাজার টন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে খেজুর আমদানি হয়েছিল ৪৪ হাজার ৬৮৮ টন। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর দিয়ে খেজুর আমদানি হয়েছে ৪৬ হাজার ৩০ টন। এরপর ফেব্রুয়ারি-মার্চে আমদানি হয়েছে ২৮ হাজার ৫০ টন। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি খেজুর এখন দেশে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কৃষিজাত পণ্য আমদানির জন্য বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হয়।

এই কেন্দ্রের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি খেজুর আমদানি হয়েছে। ২৭ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খেজুর আমদানি হয়েছে ৭৪ হাজার ৮০ টন। এসব খেজুর সৌদি আরব, ইরাক, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, জর্ডান ও পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে। এগুলোর মান গতবারের তুলনায় কিছুটা কম হলেও একেবারে খারাপও নয়।’

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর অন্তত ৪০টি দেশে খেজুর উৎপাদন হয়। তার মধ্যে মিশরের খেজুর গুণে-মানে সবচেয়ে ভালো। এর পর আছে সৌদি আরব, ইরান, আলজেরিয়া ও ইরাক।

চট্টগ্রামের বাজারে খেজুরের দরদাম

চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জ, রেয়াজুদ্দিন বাজার ও ফলমন্ডিতে দেশ ও মানভেদে প্রতি কেজি খেজুর ৭০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহেদী খেজুরের ১০ কেজির কার্টন ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকায়, ১০ কেজি কার্টনের ডাবাস খেজুর ১ হাজার ৯০০ টাকায়, নাগাল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকা, সায়ের ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সৌদি আরবের খেজুর মাশরুকের পাঁচ কেজি ওজনের কার্টন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়, মাবরুম ১ হাজার ৩০০ টাকায়, বি গ্রেডের আজোয়া ১ হাজার ৪০০ টাকায় ও আল সাফায়ি ১ হাজার ১৫০ টাকায়।

পাঁচ কেজি ওজনের ইরানের মরিয়ম খেজুরের কার্টন ১ হাজার ২৫০ টাকায়, ভালো মানের মরিয়ম খেজুর আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় এবং আলজেরিয়ার ফরিদা খেজুর ৯৫০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মিশরের মেডজুল খেজুর। প্রতি কেজি এই খেজুরের পাইকারি দাম ১ হাজার টাকা। খুচরা পর্যায়ে এর দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। অন্যান্য খেজুর সমুদ্রপথে আনা হলেও মেডজুল আসে কার্গো বিমানে। জর্ডানের মেডজুলের দাম ১ হাজার ১০০ টাকা। অনেক বিক্রেতাই মেডজুলকে ভিআইপি খেজুর বলেন।

সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে ইরাকের বস্তা খেজুর। এই খেজুরের প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

কদমতলীর ফলমন্ডির খেজুরের পাইকারি বিক্রেতা ভাই ভাই ফ্রুটসের মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, নিম্নবিত্ত ও গ্রামগঞ্জের মানুষ ইরাকি খেজুর বেশি কেনে। তাই বাজারে এর চাহিদা বেশি। আমরা পাইকারি বাজারে এক বস্তা ইরাকি খেজুর ৫০ টাকায় বিক্রি করি।

অনলাইনেও খেজুর বিক্রি বেড়েছে বলে জানান ফলমন্ডির পাইকারি ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া।

তিনি বলেন, ‘প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি অনলাইনেও খেজুর বিক্রেতা বেড়ে গেছে। মৌসুমী বিক্রেতারা অনেকেই একসঙ্গে মিলে বিভিন্ন দেশ থেকে খেজুর আমদানি করেছে। চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি থাকায় রোজায় দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ