বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াতে আগ্রহ হারাচ্ছেন যাত্রীরা
রিপোর্টারের নাম / ১৬০ বার
আপডেট সময় বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২

 

এনই আকন্ঞ্জি ,
যাতায়ত সুবিধা ও কম খরচের কারণে দিনকে দিন আখাউড়া স্থলবন্দরটি বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যাতায়াতের তালিকায় পছন্দের প্রথমদিকে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ অন্তত ৮-১০ জেলার বাংলাদেশি এ পথ দিয়ে ভারতে যাতায়াত করেন। ভ্রমণের পাশাপাশি চিকিৎসা ও ব্যবসা সংক্রান্ত কাজেও যাত্রীরা ওই দেশে যান। তবে যাত্রীদের মধ্যে ভ্রমণ ভিসায় যাতায়াতকারির সংখ্যাই বেশি। কিন্তু ওপারে যাত্রীদের বিভিন্ন হয়রানির কারণে অনেকেই যাতায়াতে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানান।

সরজমিনে দেখতে গিয়ে কথা হয়, চট্টগ্রাম থেকে আসা মুক্তা বিশ্বাস নামের এক নারী যাত্রীর সাথে। তিনি জানান, চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে ছেলেকে নিয়ে ভারতে যাচ্ছি। এ পথ দিয়ে ভারতে গেলে সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। বিশেষ করে ট্রেন যোগাযোগ। তাছাড়া এ বন্দর দিয়ে আগরতলা গেলে বিমানেরও ব্যবস্থা আছে। আখাউড়ার স্বপন দেবনাথ নামের ফিরে আসা এক যাত্রী বলেন, এপারের ইমিগ্রেশনের কাজ খুবই দ্রুত শেষ করা যায়। তবে ওপারের ইমিগ্রেশনে লম্বা সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। চট্টগ্রামের আরেক যাত্রী বলেন, ফেরার পথে ওখানকার চেকপোস্টে কাজ সারতে তিন ঘণ্টার মতো সময় লাগে। সবচেয়ে বাজে বিষয় হলো, ভবনের ভেতরে অনেক লোক অপেক্ষমান আছে উল্লেখ করে গেইটের বাইরে রোদে প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে ছোট দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বেশ অস্বস্থির মধ্যে পড়তে হয়েছে। আমার মতো আরো অনেককেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। বাংলাদেশে আসার পর আধা ঘণ্টারও কম সময়ে সব কাজ শেষ করে নিয়েছি।

অনেক যাত্রীরা বলছেন, ভারত ইমিগ্রেশনে তারা একদিন না থাকলে ট্যুরিস্ট ভিসার যাত্রীদেরকে আসতে দিচ্ছেন না। কিন্তু মাল্টিপল ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতীয় যাত্রীরা যখন ইচ্ছা যাওয়া-আসা করতে পারছেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে তাদেরকে কোনোরকম শর্ত বেঁধে দেওয়া হচ্ছে না।বাংলাদেশের প্রান্তে দ্রুত ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য কাজ শেষ করা হলেও ওপারে বেশ সময় লাগে। একেকজন যাত্রী পার হতে এক থেকে তিন-চার ঘণ্টা সময় লেগে যায়। কখনো কখনো যাত্রীরা বিমান ধরতে পারেন না দেরি হওয়ার কারণে। ফিঙ্গার প্রিন্ট কী কারণে ওখানে রাখা হয় সে বিষয় নিয়েও অনেক যাত্রী প্রশ্ন তোলেন। এসব কারণে অনেকে এ পথে যাতায়তে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানান।

ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত মো. মোস্তফা বলেন, থাকার কোনো নিয়ম আগে তারা করেননি। এখন শুনছি তারা একদিন না থাকলে ট্যুরিস্ট ভিসার যাত্রীদেরকে আসতে দিচ্ছেন না। কেন তারা এমন করছে আমরা জানিনা। অনেক সময় যাত্রীরা বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করলে ওপারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেও লাভ হয় না।

আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের সহকারি ইনচার্জ মো. মোরশেদুল হক বলেন, যতদূর জানি ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে লিখিত কোনো নির্দেশনা নেই। মৌখিকভাবেই এটা করে যাচ্ছেন তারা। এতে বাংলাদেশি যাত্রীদের সমস্যা হচ্ছে। যাত্রীদেরকে এক থেকে তিন দিন থাকার কথা বলা হচ্ছে। আবার দু’একজন অনুরোধ করে একদিনেই ফিরে এসেছেন। কেন তারা এমন করছে জানিনা। এ বিষয়ে আমরা জানার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আমাদের ফোন রিসিভ করতে চায় না বলে কিছু জানাও যাচ্ছে না।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, মাল্টিপল ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতীয় যাত্রীরা যখন ইচ্ছা যাওয়া-আসা করতে পারছেন। এক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে কোনোরকম শর্ত দিচ্ছি না। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো ধরনের নির্দেশনাও নেই।

ইমিগ্রেশন ইনচার্জ মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ভারতে গেলে রাত্রিযাপন বাধ্যতামূলক হওয়ার কোনো নির্দেশনা সেদেশে আছে বলে আমার জানা নেই। কিন্তু তারা কেন এমন করছে বুঝতে পারছি না। ভারতীয় যাত্রীরা দিনে এসে দিনে চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কোন বাধা দিচ্ছি না।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ